কাজ ও পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব (পাঠ ৩৪ - ৩৭)

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - পারিবারিক কাজ ও পেশা | NCTB BOOK
1.2k

মানুষ তার জীবিকা নির্বাহ ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। প্রত্যেক মানুষ তার দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী নানান ধরনের পেশা ও কাজে নিয়োজিত হন। একেক জনের কাজ একেক ধরনের। আমাদের জীবনে প্রত্যেক কাজেরই সমান গুরুত্ব রয়েছে। ছোটো কাজ বা বড়ো কাজ বলে যেমন কিছু নেই, তেমনি উঁচু কাজ বা নীচু কাজ বলেও কোনো কিছু নেই। যারা বিভিন্ন ধরনের কাজ বা পেশায় নিয়োজিত তাদের প্রতি সম্মান, ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা আমাদের কর্তব্য। তারা তাদের কাজের মাধ্যমে দেশের উন্নতি সাধন করছেন। কৃষক যদি ফসল না ফলান, ভ্যানচালক যদি তার ভ্যানের মাধ্যমে পণ্য আনা-নেওয়া না করেন, ডাক্তার যদি চিকিৎসা না করেন, রিকশাচালক যদি রিকশা না চালান, কুলি পণ্য বহন না করেন, দোকানদার যদি দোকান বন্ধ রাখেন, জেলে যদি মাছ না ধরেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী যদি রাস্তা পরিষ্কার না করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি তাদের দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে কী হবে? দেশ অচল হয়ে যাবে, আমাদেরও বেঁচে থাকা কঠিন হবে। সুতরাং এসকল কাজে নিয়োজিতদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবার আমরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানব :

সব কাজই সমান: যে যে কাজই করুক না কেন সব কাজই সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিশ্রম, মর্যাদা, আর্থিক মূল্য, দক্ষতার ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করলে সব কাজকে সমানভাবে দেখা এবং সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।

সবার ভূমিকা সমান : দেশের উন্নয়নে সকল পেশার মানুষের ভূমিকা সমান। শ্রমিক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সবাই যার যার কাজের মাধ্যমে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও সচল রেখেছেন। এদের কেউ যদি তাদের কাজ বন্ধ রাখেন তাহলে আমরা প্রতিদিন অসুবিধায় পড়ব। এজন্য সকল পেশার মানুষকে সম্মান জানানো উচিত।

উন্নয়নের অংশীদার: যত ধরনের কাজ ও পেশা আমাদের দেশে রয়েছে তার সবগুলোই দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে। কোনো একটি পেশার মানুষ যদি কাজ বন্ধ করে দেয় তাহলে উন্নয়ন থমকে যাবে। যেমন: কৃষক যদি উৎপাদন বন্ধ করে তাহলে খাদ্যের সমস্যা দেখা দিবে। ভ্যানচালক যদি পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখেন তাহলে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। শ্রমিক যদি বিভিন্ন কল-কারখানায় কাজ না করেন তাহলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্য সব পেশার মানুষকে সম্মান জানাতে হবে।

পেশায় শ্রমের গুরুত্ব : সব ধরনের কাজ ও পেশায় পরিশ্রম আছে। কেউ করেন শারীরিক পরিশ্রম, কেউ করেন মানসিক পরিশ্রম আবার কেউবা শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের শ্রমই দিয়ে থাকেন। কোনো ধরনের কাজই শ্রম ছাড়া সম্পাদন করা সম্ভব নয়। এজন্য সকল ধরনের পেশাকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মজবুত অর্থনীতি ও সমৃদ্ধ দেশ: দেশের মানুষ তাদের কাজের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন। প্রত্যেকে স্বস্ব পেশা ও কাজের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ করছেন। এক্ষেত্রে কে কোন পেশায় আছেন সেটি মূলকথা নয় বরং প্রত্যেকেই নিজের পেশায় থেকে শ্রম দিয়ে অর্থনীতিকে বেগবান করছেন। এজন্য সব পেশাকেই সমান মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখা উচিত।

দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি: যারা যে পেশায় আছেন বা শ্রম দিচ্ছেন প্রত্যেকেই নিজে পেশার একজন দক্ষ শ্রমিক। চাই সেটা মানসিক হোক অথবা শারীরিক হোক না কেন উত্তরোত্তর কাজ করার কারণে তারা নিজেদের পেশায় যেমন আরও দক্ষ হয়ে উঠেছেন তেমনি তাদের দক্ষতা নতুনদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এজন্য প্রত্যেক পেশাকেই সম্মান করা দরকার।

শ্রম বিভাজন: এক একজন একেক পেশায় জড়িত হওয়ায় শ্রমের বিভাজন ঘটেছে। সবাই যদি একই কাজ করে বা করতে চায় তাহলে অন্য কাজগুলো কে করবে? এছাড়া সব পেশায় যদি মানুষ জড়িত না হয় তাহলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে। এজন্য সব পেশাকে সম্মান জানাতে হবে যাতে মানুষ সব ধরনের পেশায় জড়িত হতে পারে।

সামাজিক ভারসাম্য: বিভিন্ন কাজ বা পেশায় জড়িত হওয়ার ফলে মানুষের পরিবারে যেমন স্বচ্ছলতা আসছে তেমনি সমাজের ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে। সমাজে বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণি গড়ে উঠছে। সবাই সচেতনতা ও আত্মমর্যাদার সাথে নিজ নিজ কাজে নিয়োজিত থাকে। তারা নিজেদের অধিকারের বিষয়ে যেমনি সচেতন থাকে ঠিক তেমনিভাবে অন্যদের অধিকারের ব্যাপারেও সচেতন থাকে। সমাজের ভারসাম্যতার জন্য সব ধরনের পেশাকে সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে।

কাজ
দলগত কাজ
কাজ ও পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব বিষয়ে পোস্টার লিখে তা শ্রেণিতে প্রদর্শন।
*এ কাজে দুটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...